Homeআন্তর্জাতিকবিশ্বকাপের আগেই মাঠে গড়াবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব লড়াই

বিশ্বকাপের আগেই মাঠে গড়াবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব লড়াই

বিশ্বকাপের আগেই মাঠে গড়াবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব লড়াই। ছয় দলের টুর্নাম্যান্টে অন্যতম শক্তিশালী দল বাংলাদেশ। অতীতে একাধিকবার ফাইনাল খেললেও, শিরোপার আক্ষেপটা রয়ে গেছে সবার মাঝে। কিন্তু এবার সময় এসেছে তা পূরনের। আসছে এশিয়া কাপই সুযোগ চ্যাস্পিয়ন হওয়ার। যেটা চায় কোটি ভক্ত। কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব? এই নিয়ে বিস্তারিত থাকছে জিসান মাহমুদ শ্রাবনের লেখা প্রতিবেদনে…

— ২০১২ এশিয়া কাপে হেরে সাকিব, মুশফিক, রিয়াদরা কেঁদে ছিলেন। সেই দৃশ্যটা আজও বাংলাদেশ ক্রিকেটের কোটি ভক্তের হৃদয় কম্পিত করে তুলে। সেইবার শিরোপার কাছে গিয়েও শেষ মুহুর্তে গিয়ে আর জয় করতে পারেননি। কিন্তু, সময় বদলেছে আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা দলে পরিনত হয়েছে টাইগাররা। তরুন অভিজ্ঞতা মিলিয়ে যেই দলটা দেখছে বিশ্ব জয়ের, অনুমেয় ভাবে তারা এবার এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বটাও পাবে। তাই আসছে এশিয়া কাপে অতীতের এমন ব্যর্থতা ভুলে শিরোপা জিততে চাইবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। কারন, নানা নাটকীয়তা শেষ হয়ে, এশিয়া কাপ আয়োজনে সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছে পিসিবি। আর এই টুর্নাম্যান্টে অন্যতম ফ্যাভারিট তামিম, সাকিবরা। বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম অভিজ্ঞ দল। সাকিব, তামিম, মুশফিকরা এক সাথে দীর্ঘদিন ধরে ক্রিকেট খেলছেন। শান্ত, মিরাজ, লিটনরাও এখন পরিনত। বলা চলে ক্যারিয়ারে সফল সময় গুলোই পাড় করছেন এই জুনিয়ররা। পাশাপাশি, বোলিং ইউনিটের দিক থেকেও বিশ্বের অন্যতম সেরা দল এখন বাংলাদেশ। তাসকিন, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুররা এখন যে কোনো দলে জন্য ভয়ঙ্কর। আর এটা যদি এশিয়া কাপে ধরে রাখতে পারেন তাহলেই সম্ভব ইতিহাস গড়ার। তাছাড়া, এই নিয়ে ক্রিকেটাররাও বেশ আত্মবিশ্বাসী। যেটা সবচাইতে বেশি প্রয়োজন।

এসবের বাহিরে কিছুদিন আগেই ভারতের বিপক্ষে সিরিজ জয়, শেষ কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ওয়ানডেতে নিয়মিত জয় পাচ্ছে টাগাররা। সেক্ষেত্রে এশিয়া কাপেও যদি সেই ধারা অব্যাহত থাকে তাহলে শিরোপা জয় সময়ের ব্যপার মাত্র। আর এশিয়ার মাটিতে সাকিবরা কতটা শক্তিশালী সেটা সবারই ধারনা আছে। এমনকি, অতীতের একাধিক ফাইনাল খেলাও কাজে লাগবে এবারের টুর্নাম্যান্টে। আর তরুনরা বর্তমানে যেভাবে পার্ফম করছে, তা স্বপ্ন দেখানোর জন্য যথেষ্ট। তাই সবমিলিয়ে বলা যায়, বিশ্বকাপের আগে এশিয়া কাপ জয় দারুন আত্মবিশ্বাস দিবে টিম টাইগার্সকে। আর সেই সামর্থ বাংলাদেশের আছেও। এখন তাই সময়ের অপেক্ষা। ২০১২ ছাড়াও, ২০১৬ সালে ঘরের মাঠে টি টোয়েন্টি এশিয়া কাপে শিরোপা জয়ের ব্যপারে সবাই ছিলো আত্মবিশ্বাসি। কিন্তু, ভাগ্যেটা সেইবারও বাংলাদেশের পক্ষে আসেনি। সাকিব, সাব্বির, মাশরাফিরা সেইবারও ফাইনালে গিয়ে আর শেষ পর্যন্ত পেড়ে উঠেনি। ভারতের কাছে হেরে শিরোপা বঞ্চিত হতে হয়। তারপর, ২০১৮ সংযুক্ত আরব আমিরাত এশিয়া কাপ; সেখানেও একই ফলাফল। পুরো টুর্নাম্যান্ট দাপটের সাথে খেললেও ফাইনালে ছন্দ পতন। আবারও সেই ভারত বাঁধা। সেখানে হারতে হয় শিরোপার কাছে গিয়ে। কিন্তু এবার সময় এসেছে অতীত ভুলে নতুন ভাবে এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্ব জয়ের।
Golden Monir forwarded a message
Md Moniruzzaman Monir
আর কয়েকটা মাস রয়েছে আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপের! আগামী অক্টোবরেই শুরু হবে এই বিশ্ব আসর। যেখানে বাংলাদেশ সমর্থকদের স্বপ্নটা এবার বিশাল। অনেকেই বলছেন এটাই সেরা সুযোগ বিশ্বকাপ জিতার। যার পাঁচটি কারন নিয়ে এরই মধ্যে আমরা বিস্ময় বাংলা টিম একটা ভিডিও করেছি। কিন্তু, এবার বলবো যেই কারনগুলোর জন্য বিশ্বকাপে এই ভালো করার সম্ভবনা কমে যাচ্ছে। যেই প্রার্টিকুলার কারনের জন্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কে ভোগতে হতে পারে। যেই কারনের দায়ে ২০২১ বিশ্বকাপের মতো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি হতে পারে টাইগার শিবিরে। তো চলুন দর্শক আর দেড়ি না করে আলোচনায় যাই যেকারন গুলো বিশ্বকাপে ভোগাতে পারে বাংলাদেশকে, বঞ্চিত হতে পারে ফাইনাল খেলার স্বপ্ন থেকে।

সময়টা ২০২১ টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই বিশ্বকাপের আগে কতশত স্বপ্ন ছিলো এই দেশের ক্রিকেট সমর্থকদের। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জয় করে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে ছিলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। একাধিক অলরাউন্ডার ও ব্যালেন্স টিম দেখে জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েভসাইট ক্রিকইনফো বাংলাদেশকে সেইবারের বিশ্বকাপে ডার্ক হরস বলেও অ্যাখ্যায়িত করেছিলো। কিন্তু, মাঠের খেলায়
সংযুক্ত আরব আমিরাতে কি হয়েছিলো তা নিশ্চিত ভাবে এই ক্রিকেট জাতি বহুদিন মনে রাখবে। গ্রুপ পর্বে একটা ম্যাচও জিততে পারেনি লিটন, সাকিবরা। ঠিক তেমনই প্রত্যাশা এই বিশ্বকাপেও, কিন্তু ভয় হলো; আবারও যাতে ২০২১ বিশ্বকাপের পুনরাবৃত্তি না হয়। আর সেই ভয়ের অন্যতম প্রধান কারন যথেষ্ট ব্যাক আপ খেলোয়াড় নেই।

হ্যা দর্শক, যদি আপনি ক্রিকেটের নুন্যতম জ্ঞান ও নির্ভুল চিন্তা ধারা নিয়ে মাথা খাটান তাহলে দেখতে পারবেন আমাদের দলে আসলেই নেই পুক্ত ব্যাক আপ সাইট ব্যাঞ্চ। সামনে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপের মতো দুটি বড় ও গুরুত্বপূর্ণ এবং লং টাইমিং টুর্নাম্যান্ট। সেখানে এই দীর্ঘ সময়ে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, মনোবল ধরে রাখাটা কষ্টকর। বা একজন অফর্মে পরলে, অন্য একজনকে সেই অভাবটা পূরণ করতে হবে। তাছাড়চ, সেখানে হুট করে কোনো খেলোয়াড় ইনজুরিতে পরতেই পারেন। কিন্তু, সেক্ষেত্রে কি ব্যাক খেলোয়াড় যথেষ্ট আমাদের আছে? এই যেমন অধিনায়ক তামিমকে নিয়েই অনেকের শঙ্কা আছে। যদিও, ওপেনিংয়ে তামিম ও লিটন অটোচয়েজ। কিন্তু, খেলার মাঝে হঠাৎ করে যদি দুইজনের এক জন ইনজুরিতে ছিটকে যায়, তাহলে তা পুষিয়ে নেওয়ার সামর্থকি অন্যদের আছে? এই কথা চিন্তা করে, আফগানিস্তানের বিপক্ষে নাইম শেখকে নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু, নাইম শেখ সেখানে পুরোপুরি ব্যর্থ। ফুট ওয়ার্কে তিনি কতটা দুর্ভল তা পানির জলে ভেসে উঠেছে এই সিরিজে। আর এমন দুর্ভলতা নিয়ে বিশ্বকাপে মিচেল স্টার্ক, বোল্টদের মুকাবিলা করাকি সম্ভব? তাছাড়া, তালিকায় আছেন রনি তালুকদার, যিনি কিনা এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচ খেলেইনি। তাকে কি এমন গুরুত্বপূর্ণ টুর্নাম্যান্টে অভিষেক করানোটা কোনো আদর্শ কোচের প্লানে পরে? তাছাড়া, রনি টি টোয়েন্টিটে পার্ফম করেছে, ঘরোয়া লীগে একদিনের ম্যাচেও আহামরি কিছু দেখাতে পারেননি। তাহলে, তিনি কোন যুক্তিতে দলে সুযোগ পাবেন? সৌম্যকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে, অথচ, তার গত এক দুই বছরের মধ্যে মনে রাখার মতো কোনো পার্ফমই নেই। ইমার্জিং এশিয়া কাপ খেলছেন, সেখানে তিনি ব্যাট করছেন ছয় নম্বরে। সেক্ষেত্রে তাকে কি ওপেনিং করানো যাবে?

বর্তমানে দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সমস্যা অভ্যন্তরীন কোন্দল। তামিম ইস্যু নিয়ে ঘোটা দেশের ক্রিকেটে যেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিলো তার প্রভাব মাঠের ক্রিকেটে আফগানিস্তান সিরিজে দেখতে পেয়েছি। এশিয়া কাপ ও বিশ্বকাপের আগে কোচ ও অধিনায়কের মধ্যে এমন মনমালিন্য অবশ্যই খেলোয়াড়দের মানসিকতার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। সেটাও অনেক খানি পিছিয়ে দিতে পারে আমাদের।

তাছাড়া, সাত নম্বর পজিশনে খেলবেন কে? এশিয়া কাপ আমাদের দর্জার সামনে অথচ, এখনও কোচ হাথুরুসিংহের কাছে এই প্রশ্নের জবাব নেই। তিনি এখনও পরিক্ষা করতে ব্যস্ত। এটা অবশ্যই ভালো খবর নয় আমাদের জন্য। সবশেষ সিরিজে আফিফকে এই পজিশনে খেলানো হয়েছে। তিনি সেখানে প্রথম ম্যাচে করেছেন চার রান, আর দ্বিতীয় ম্যাচে দলের বিপর্যয়ের সময়ও খালি হাতে ফিরে গিয়েছেন। সেৎান থেকে বলা যায় আফিফ এশিয়া কাপের জন্য যথার্থ নন সাত নম্বরে। অন্যদিকে, দেশের একমহল ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করেন রিয়াদকেই এই যায়গায় খেলানো উচিৎ। কিন্তু, কোচ চেয়ে আছেন সৌম্যর দিকে। এমনকি, এখন পর্যন্ত তার এবং নির্বাচকদের সঠিক পরিকল্পনা কি সেটাই কেউ জানে না। অথচ, টুর্ন্যাম্যান্ট আমাদের হাতের কাছে চলে এসেছে। যেটা আদৌকি স্বস্তির খবর আমাদের জন্য?

এছাড়া, যেই বাংলাদেশকে নিয়ে এত বেশি স্বপ্ন দেখছি সেই বাংলাদেশ দলের কি বড় দলের বিপক্ষে আসলেই চোখে চোখ রেখে জবাব দেওয়ার সামর্থ আছে? দেশের মাটিতে আমরা ভারতকে হারিয়েছি, দক্ষিন আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে জয় পেয়েছি। তার মানে এই না আমরা বিশ্বকাপেও তাদের বিপক্ষে প্রতি ম্যাচে ভালো করবো। আয়ারল্যান্ডে বিপক্ষে সবশেষ সিরিজে তাদের মাটিতে বাংলাদেশের দুইটা ম্যাচেই পুরো পঞ্চাশ ওভার খেলতে কষ্ট হয়েছে। এমনকি শেষ ম্যাচেতো সাত বল হাতে থাকতেই অল আউট হয়েছে। তার চেয়ে বড় কথা আফগানদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজে কি করেছি ভুলে গেলে চলবে না। প্রথম দুই ম্যাচের ব্যাটিং বিপর্যয়টা ছিলো দৃষ্টি কটু। ব্যাটাররা যেন বল খেলতেই ভুলে গেছেন। দেশের মাটিতে এমন সিরিজ হার কিছুটা চাপে রাখবে বাংলাদেশকে। তার চাইতে বড় কথা বিশ্বকাপ হবে ভারতে, যেখানে স্পিন সহয়তা একটু বেশি থাকতে পারে। যেটা নিয়ে বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু, এটা ভুলে গেলে চলবে না, সেখানে লেগ স্পিনারদেরও রাজত্ব থাকবে। কিন্তু, বাংলাদেশের কাছে সেই লেগ স্পিনারই নেই, যিনি ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন। তার, চেয়ে বড় কথা বাংলাদেশের ব্যাটাররা সবচেয়ে দুর্ভল লেগ স্পিন খেলতেই। যেটা এই সিরিজ কিংবা অতীতে অনেক দেখেছি।

বিশ্বকাপে ভালো করতে হলে সাকিব, তামিমদের বড় বড় দলগুলোর বিপক্ষে শুধু জয়ই পেতে হবেনা, বরং তাদের ডমিনেট করতে হবে। কিন্তু, সেটাকি সহজ হবে? অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কি আমাদের ছেড়ে কথা বলবে। তাই তার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এখনই ফ

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular